শিক্ষাশিক্ষা সংবাদ

সমন্বিত ৮ ব্যাংকের পরীক্ষায় অনিয়ম | কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা

আজকের সমন্বিত ৮ ব্যাংকের পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের পরীক্ষা বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে।

অনেকে এই পরীক্ষাকে  রীতিমতো প্রহসন মনে করছেন। কেন্দ্রগুলোতে সীট প্ল্যান নেই। যে যার মতো বসেছে। বসতে না পেরে অনেক জায়গায় মারামারি। সাড়ে তিনটার পরীক্ষা অথচ পৌনে চারটাতেও প্রশ্ন যায়নি। মোবাইল নিয়ে পরীক্ষার হলে গেছে।  সিট না পেয়ে অনেক জায়গায় পরীক্ষা থেকে বের হয়ে আসে শিক্ষার্থীরা।

যে সময়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল সেময়ে শিক্ষার্থীরা হল থেকে সেলফি, ফেসবুকে লাইভ ভিডিও সহ প্রতি মুহুর্তের খবর বিভিন্ন গ্রুপে প্রচার করেছে।

শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে যে এই পরীক্ষা পরিচালনায় কোন কোন নিয়ম কানুন মেনে চলা হয়নি । এত বড় একটা নিয়োগ পরীক্ষা সেটাতে ছিলনা কোন সিট প্ল্যান। যে যেখানে, যতজন পারে এক সিটে বসেছিল। অনেকে সিট না পেয়ে অফিস রুমে এমনকি লাইব্রেরীতে পর্যন্ত বসেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকালে মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ ও ভাংচুর চালিয়েছে। পরীক্ষা না দিয়ে বেরিয়ে গেছেন বাংলা কলেজের পরীক্ষার্থীরাও। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি।

কমিটির সদস্য সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের মহা ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন খান সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে জরুরি সভা চলছে।”

বাংলা কলেজ কেন্দ্রে চার হাজার এবং মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১৬০০ চাকরিপ্রত্যাশীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও ক্যাশ অফিসার পদে নিয়োগের এই সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগকে।

এক রিট আবেদনে এ পরীক্ষা হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের আদেশে এই পরীক্ষা নেওয়ার পথ তৈরি হয়। আগের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আটটি ব্যাংকে মোট ১৬৬৩টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই নিয়োগ পরীক্ষায় তার বোনের সিট পরেছিল মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। বোনকে নিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু গণ্ডগোলের মধ্যে ওই কেন্দ্রে আর পরীক্ষাই হয়নি।

“এক বেঞ্চে ৮-১০ জন বসিয়েছে, এতে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে বেরিয়ে আসে। অনেকে ওএমআর শিট নিয়েই ফিরে গেছে। এই কেন্দ্রের কেউই পরীক্ষা দিতে পারেনি।” পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে প্রার্থীরা ওই কলেজের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেন বলে জানান আসাদুজ্জামান।

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরপুর বাংলা কলেজের পরিস্থিতিও ছিল প্রায় একই রকম। শাহ আলী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জায়গা না হওয়ায় কেন্দ্রের ভেতরে ঝামেলা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।” এ সমস্যা কেন হল, সে বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কিছু বেশ কিছু কেন্দ্রে আবার সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ।

ফেসবুক থেক সংগৃহিত ছবির স্ক্রিনশট

 

আমাদের ফেসবুক গ্রুপে Join করেছেন কি?

বিসিএস সহ যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সফল ব্যাক্তিদের বিভিন্ন পরামর্শ, গুরত্বপূর্ণ নোট ও শর্টকাট টিপস পেতে এখানে ক্লিক করে জয়েন করুন আমাদের Official ফেসবুক গ্রুপে।

Tags

আইটি মনা

বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস এবং গুরত্বপূর্ন সফটওয়্যার নিয়ে আপনাদের সাথে আছি সব সময়।

Related Articles

Leave a Reply ( আপনার মতামত প্রকাশ করুন )

Back to top button
error: Content is protected !!
Close